NewsLab
News
বিশ্বজুড়ে রোজার সময়ের পার্থক্য

যে কারণে প্রতি বছর রমজানের তারিখ পরিবর্তিত হয়

By
Updated
8 views
যে কারণে প্রতি বছর রমজানের তারিখ পরিবর্তিত হয়

পবিত্র রমজান মাস আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে, যা নির্ভর করবে আকাশে চাঁদ দেখার ওপর। মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মাস সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিন স্থায়ী হয় এবং এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা, নামাজ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ইবাদতে বেশি মনোযোগ দেন।

রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী প্রতিদিনের রোজার সময় সাধারণত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মাসেই মহান আল্লাহ আল-কুরআন-এর প্রথম আয়াত নাজিল করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রায় ১,৪০০ বছর আগে। রোজা পালনের সময় দিনের বেলায় খাবার, পানীয়, ধূমপান ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ও আত্মসংযম অর্জন করা।

যে কারণে প্রতিবছর রোজার তারিখ পরিবর্তন

রমজান প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে শুরু হয়। কারণ ইসলামি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, যেখানে মাসের দৈর্ঘ্য ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে।

চন্দ্রবর্ষ সৌরবর্ষের তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট হওয়ায় রমজান ধীরে ধীরে ভিন্ন ঋতুতে স্থানান্তরিত হয়। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করায় এ বছর সেখানে রোজার সময় কিছুটা কম হবে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। ওই বছর রমজান বছরের সবচেয়ে ছোট দিন অর্থাৎ শীতকালীন অয়নান্তের সময় পড়বে।

অন্যদিকে বিষুবরেখার দক্ষিণে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য এ বছর রোজার সময় তুলনামূলক বেশি হবে। একই কারণে ২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রমজান পালিত হবে—প্রথমটি ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর শুরু হবে।

বিশ্বজুড়ে রোজার সময়ের পার্থক্য

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হয়। উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকায় সেখানে রোজার সময় তুলনামূলক কম হবে। রমজানের প্রথম দিকে সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হতে পারে এবং মাসের শেষের দিকে সময় কিছুটা বাড়বে।

অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ যেমন চিলি, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা-তে রোজার সময় প্রথম দিকে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাসের শেষ দিকে এসব দেশে রোজার সময় ধীরে ধীরে কমে আসবে।

সেহরি, ইফতার ও রমজানের শুভেচ্ছা

সেহরি (ভোরের আগে খাবার) এবং ইফতার (সূর্যাস্তের পর রোজা ভাঙা) সময় প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। সঠিক সময় মেনে চলতে বিভিন্ন দেশে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা হয়।

রমজান মাসে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে বিভিন্ন ভাষায় শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শুভেচ্ছা হলো “রমজান মোবারক” এবং “রমজান কারিম”, যা একটি বরকতময় ও কল্যাণময় মাসের প্রত্যাশা প্রকাশ করে।

রমজান মুসলিমদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও পারস্পরিক সহমর্মিতার এক গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।